শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা আজও আমার মনে পড়ে। সহপাঠীদের বিদ্রূপ, নাম ধরে ডাকা বা সবার সামনে ছোট করার সেই স্মৃতিগুলো আজও আমাকে তাড়া করে ফেরে। যদিও সেই ঘটনাগুলোর বয়স এখন অনেক বছর, কিন্তু এর প্রভাব আজও আমার বর্তমান জীবনে রয়ে গেছে। আজও মাঝেমধ্যে মিটিংয়ে সবার সামনে কথা বলতে গেলে বুক ধড়ফড় করে ওঠে কিংবা নতুন মানুষের সাথে মিশতে এক অদৃশ্য জড়তা কাজ করে।
মনোবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আমি বুঝতে পেরেছি যে, বুলিং কেবল সাময়িক কোনো দুষ্টুমি নয়; এটি একটি শিশুর মানসিক কাঠামোকে স্থায়ীভাবে দুমড়েমুচড়ে দিতে পারে। আমার নিজের জীবনের সেই অদৃশ্য শিকলগুলো আমাকে প্রতিনিয়ত তাগিদ দিয়েছে যেন অন্য কোনো শিশুকে আবির বা সুমনার মতো ভাগ্য বরণ করতে না হয়।
আমি এই বইটি লিখেছি একজন গবেষকের নির্লিপ্ততা থেকে নয়, বরং একজন ভুক্তভোগীর সহমর্মিতা থেকে। আমি চেয়েছি অভিভাবক এবং শিক্ষকদের হাতে এমন একটি নির্দেশিকা তুলে দিতে, যা দিয়ে তারা শিশুদের মনের গোপন ঝড়গুলো বুঝতে পারেন।
বুলিং-এর এই অদৃশ্য ক্ষত যেন কারো উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে ম্লান করে না দেয়, সেই লক্ষ্যেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। মনে রাখবেন, আমাদের ছোট্ট একটি সচেতনতা এবং শিশুর পাশে বন্ধুর মতো দাঁড়ানোর সাহসই পারে একটি প্রাণবন্ত প্রজন্ম গড়ে তুলতে।
বইটি পড়ার পর যদি একটি শিশুও বুলিং-এর হাত থেকে বেঁচে যায়, তবেই আমার এই পরিশ্রম সার্থক হবে।

